বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯

প্রসংগ গ্রাফিক ট্যাব

গ্রাফিক ট্যাবলেট। নতুন অনেক আর্টিস্ট কার্টুনিস্ট গ্রাফিক ডিজাইনার, সবার কমন প্রশ্ন কোন গ্রাফিক ট্যাবলেট কিনব? দেখা যায় গ্রাফিক ট্যাবলেট কেনা বিষয়ে পরামর্শ চাইলে অনেকেই বলেন বাজেটের ভেতর যেটা পাও সেটাই কিনে ফেল। আমি নিজেও এই পরামর্শ দেই অনেককে। কারন কিছুদিন আকাআকির অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি গ্রাফিক ট্যাবলেটের কনফিগারেশন ভাল বলে কারো আকা ভাল হয়ে যায়নি। কিন্তু নতুন দের জন্য এই পরামর্শ দেখা যায় আরো কনফিউজিং হয়ে যায়৷ আগে ছিল একটা ব্র‍্যান্ড এখন বাজারে অনেক গুলি ব্র‍্যান্ডের ড্রয়িং ট্যাবলেট। কোনটা ছেড়ে কোনটা কিনব, কি কি স্পেসিফিকেশনের দিকে নজর রাখব, বাজেট কি বাড়াব নাকি কমের ভেতরেই রাখব, এসব একশ চিন্তা ভেবে দিশেহারা হয়ে যায় অনেকেই। এগুলি নিয়েই আজকের লেখাটা।

প্রথমেই গ্রাফিক ট্যাবলেট কেনার সময় সবাই ভাবতে বসে বাজেট। কিন্তু তার আগে ভাবা উচিত কী কাজে ট্যাবলেট টা কিনছি। এবং আর একটা জিনিস মাথায় রাকাহ দরকার যে ট্যাবলেটে আগে আকার অভিজ্ঞতা না থাকলে ট্যাবলেটে ড্রয়িং এ অভ্যস্ত হতেই কয়েক মাস লেগে যাবে। সুতরাং কিনে একে ফাটিয়ে ফেলব এই আশা না রাখাই ভাল। খাতা কলমে আকার স্কিল ট্যাবলেটে ট্রান্সফার হতে বেশ সময় লাগবে এটা মেনে নিতে হবে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে প্রথম ট্যাবলেট আসলে ডিজিটাল ড্রয়িং এর হাতে খড়ি ডিভাইস হিসাবেই কাজ করবে। এজন্য প্রথম ট্যাবলেট এক্সপেরিমেন্টের জন্য কেনা এটা মাথায় রাখা উচিত। অনেক বাজেট না বাড়িয়ে প্রথম ট্যাবলেটের জন্য একটু লো বাজেটের ট্যাবলেট কেনা ভাল। এই পয়েন্টে এসে অনেকে ভাবে বেশি দামের টা নিশ্চয় বেশি ভাল, ভাই আমাকে ভালটা কিনতে নিষেধ করছেন নিশ্চয় ওটার সিক্রেট ফিচার আমাকে জানতে দিতে চাননা। নিজেরা তো ঠিক ই দামী দামী ট্যাবলেটে ছবি আকেন। আর তাই জন্যই তো ছবি গুলো ভাল হয়। কিন্তু আসলে বিগিনার আর্টিস্ট কে কম দামে ট্যাবলেট কিনতে বলি যাতে শুরুতে হোচট খেয়ে হতাশাটা কমের উপর দিয়ে যায়!

বাজেট প্রসংগে আর একটা কথা৷ বাজারে ৩০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ট্যাবলেট আছে। আমি কোন বাজেটে কিনব? বাজেট বেশি থাকলে ভাল দামী কিছু কিনতে আপত্তি নেই কিন্তু বাজেট না থাকলে দামী ট্যাবলেট না কেনার দুঃখে থাকার ও দরকার নেই। একটা থাম্ব রুল হতে পারে যদি হাই এন্ড এর ট্যাব কেনার বাজেট না থাকে তাহলে মোস্ট প্রোবাবলি ওই ট্যাবলেটটা আপনার এখন প্রয়োজন ও নেই। আপনি হয়ত শখে আকা শুরু করেছেন। কিছুদিন টুকটাক আকেন ভাল লাগতেছে৷ তখন ই যদি ভাবেন আপনার আর্ট কে নেক্সট লেভেলে নেবার জন্য প্রয়োজন একটা ডিসপ্লে সহ ট্যাবলেট আমি বলব ভুল করবেন। তার থেকে আপনার বেশি প্রয়োজন আকার স্কিল আরো ডেভেলপ করা। খাতা কলমে আকতে গেলে আপনি প্র‍্যাক্টিস করার জন্য নিউজপ্রিন্টের কম দামী খাতা আর বল পেন কিনেন। ফাউন্টেন পেন আর দামী কাগজ কিন্তু কিনেন না। ডিজিটালি কাজ শুরুতেও আসলে হাতে প্র‍্যাকটিস এর জন্য একটু লো বাজেটের ট্যাব ই ভাল। কারন এই ট্যাবটা আপনাকে ডিজিটাল ড্রয়িং করতে শেখাবে। তারপর আপনি যদি প্রফেশনালি কাজ করতে থাকেন তাহলে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেই বুঝে নিতে পারবেন আপনার কোন ডিভাইস্টা দরকার।

তাহলে যেই বাজেট ঠিক করব সেটার ভেতরেই একটা ট্যাবলেট কিনব। কিন্তু কিনতে গেলে কী কী দেখব? কোন ব্র‍্যান্ড দেখব? এগুলির উত্তর একটা একটা করে আসি।

ব্র‍্যান্ডঃঃ আমি ওয়াকম, জিনিয়াস আর এক্সপি পেন ব্র‍্যান্ডের ট্যাব ব্যবহার করেছি। এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমি বলব ওয়াকম কিনতে। এখনকার হুইয়ন বা এক্সপি পেন ট্যাব ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আমার নেই। তাই এ বিষয়ে সঠিক কম্পেয়ার দিতে পারছি না। সব থেকে ভাল হয় ব্যবহারকারী কার কাছ থেকে অপিনিয়ন নিলে। ফেসবুকে অনেক গ্রুপে আপনি ইউওজার ফিডব্যাক নিতে পারেন। আমার পরামর্শ থাকবে ওয়াকম কিনার।

সাইজঃ ডিভাইসের সাইজ একটা ইম্পর্টান্ট ফ্যাক্টর মডেল চুজ করার জন্য। আমি যতগুলি ট্যাব ইউজ করেছি সব গুলি স্মল সাইজের। তাই আমি বলব যারা শুরু করছেন ডিজিটাল আর্ট তারা স্মল সাইজটাই  কিনতে পারেন। ক্যানভাসে আকার অভ্যাস থাকলে অনেকে মিডিয়াম সাইজে কম্ফর্টেবল হন। আপনার অভিজ্ঞতা আর বাজেট বুঝে ঠিক করে নিতে হবে।

মডেলঃ মডেল বাছার ক্ষেত্রে কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখতে পারেন।

পেন প্রেশার লেভেলঃ আমার পরামর্শ ২০০০ প্রেশার লেভেলের নিচের ট্যাব না কেনার। ১০০০ প্রেশার লেভেলের ট্যাব ও আমি ব্যবহার করি। তবে ২০০০ এ আমার ড্রয়িং স্টাইলের সাথে বেশি কম্ফোর্টেবল লাগে। এখন ৮০০০ প্রেশার লেভেলের স্টাইলাস পাওয়া যায়। সেগুলো সাধারনত একটু হাই বাজেটের তাই বাজেটে কুলালে এবং প্রফেশনালি কাজ করলে কিনতে পারেন। 

স্টাইলাসঃস্টাইলাস দুই ধরনের হতে পারে-ব্যাটারি সহ আর ব্যাটারি ছাড়া। ওয়াকম এর সব ডিভাইসেই ব্যাটারী ফ্রি স্টাইলাস থাকে। ব্যাটারি সহ স্টাইলাস ব্যবহার করে দেখেছি ভারী লাগে আর ব্যাটারি পাল্টাবার হ্যাসল থাকে। ব্যাটারি ফ্রি স্টাইলাস মডেল কেনার পরামর্শ থাকবে।

ওয়্যারঃ তার এর কানেকশন সহ মডেল আছে, ব্লু টুথ সহ মডেল আছে। এটা তেমন ডিফারেন্স মেক করেন আমার মনে হয়। যে কোনটা নিতে পারেন। তবে কানেকটিং তার বেশি না খোলা বা নিয়ে মুভ না করা ভাল। আমার একটা ইন্টুস মডেল এর কানেকটিং তার এর জায়গাটা নষ্ট হয়ে যায় বার বার তার পালটানো এবং ক্যারিং এর সময় বাড়ি খাবার কারনে।

টাচঃ টাচ ড্রয়িং ট্যাব এ আমার তেমন কোন কাজে লাগেনি। টাচ ছাড়া মডেল কিনতে পারেন কোন পার্থক্য নেই।

ডিসপ্লেঃ ইদানিং অনেকে ডিসপ্লে সহ ট্যাব কিনতে চান। এ ধরমের ট্যাব এর প্রথমত দাম বেশি। তাই কেনার আগে বুঝে নেন আপনার কেনার প্রয়োজন, বাজেট আছে কিনা। কেনার সিদ্ধান্ত নিলে দুম করে না কিনে একটু অনলাইনে ঘাটা ঘাটি করে দেখেন। সব থেকে ভাল হয় লং টাইম ইউজার কারো থেকে অপিনিয়ন নিলে এবং ডিভাইস টা ব্যবহার করে দেখলে। আমি ডিস্পলে সহ ট্যাব ব্যবহার করেছি সিন্টিক,  এক্সপি পেন এবং আই প্যাড৷ সিন্টিক ই আমার মতে সব থেকে সেফ এবং ভাল অপশন। এক্সপি পেন এ আমি একে আরাম পাইনি। পেন প্রেসার লেভেল ওয়াকম এর মত ছিলনা। আই প্যাড ডিভাইস হিসাবে ভাল কিন্তু আমার প্রফেশনাল কাজে সফটওয়্যার সাপোর্টে একটু ল্যাকিং। যেহেতু আমি ডেস্কটপ এ আকি সিন্টিক আমার জন্য সব থেকে বেশি কাজের। তবে এক্ষেত্রেও কেনার আগে অবশ্যই দেখে নিবেন কিছু জিনিস।

প্যারালাক্সঃ ডিভাইস ডিস্পলে এবং পেন এর মধ্যে একটা ছোট্ট ডিসটেন্স থাকে। কেনার আগে অবশ্যই ইউজ করে দেখে নিবেন এই প্যারালাক্স আপনার আকায় কোন সমস্যা করছে কিনা। অনেকে সিন্টিক কিনে কাজ করতে পারেননি প্যারালাক্স এ সমস্যা হয় বলে।

কানেক্টিভিটিঃ সিন্টিক এর নতুন মডেলগুলি ডিরেক্ট ডেসটপের সাথে কানেক্ট করা যায়না। আলাদা কানেক্টর লাগে। আবার এইচ ডি মডেলগুলি সরা সরি পিসিতে কানেক্ট করা যায়। তাই আগেই কানেক্টিং পোর্ট সম্পর্কে দেখে নিন।

প্রসেসরঃ সিন্টিক এর সব থেকে দামী মডেলগুলি আসলে প্রসেসর র‍্যাম হার্ড্ডিস্ক সহ এক একটা কম্পিউওটার। মোবাইল স্টুডিও অনেকে কিনতে চান পোর্টেবিলিটির জন্য। তবে আমি পার্সোনালি মোবাইল স্টুডিও কেনার বিপক্ষে। কারন এটা প্রসেসর ব্যাটারি সহ বেশ ভারী একটা ডিভাইস এবং পোর্টেবল হিসাবে ভালনা। আর ব্যাটারী থাকার কারনে এটা বেশ গরম হয় যা আকার জন্য আনকম্ফোর্টেবল৷ এবং তা ছাড়া দুই জন এইউওজার এক্সপেরিয়েন্স আমি শুনেছি যারা মোবাইল স্টুডিও কেনার পর ডিভাইসে প্রবলেম দেখা দিয়েছে এবং ডিভাইস নষ্ট হয়ে গেছে। যদি ডেস্কটপ এর সাথে সিন্টিক ব্যবহার করতে চান তাহলে অনলি ডিসপ্লে ডিভাইস কেনাটাই ভাল হবে। মোবাইল স্টুডিও তে আপনি পেন বা ডিসপ্লে এর প্রেশার লেভেল, রেসপন্সিভনেস এগুলিতে কোন আপগ্রেড পাবেন না৷

এগুলি ই মোটামটি গ্রাফিক ট্যাবলেট নিয়ে আমার জ্ঞান। কারো কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। তবে শেষ কথা, ট্যাবলেট আপনাকে আকা শেখাবে না। আকা শেখাবে প্র‍্যাকটিস এবং বুঝে প্র‍্যাকটিস।

বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

মেলায় ছোটদের বই

প্রতি মেলায় ইচ্ছা থাকে ছোটদের বই নিয়ে এক্সপেরিমেন্টাল কিছু করার। কিন্তু করতে যেয়ে দেখি শেষ মেষ খুব একটা নতুন ধরনের কাজ করার সাহস করে উঠতে পারি না, বা পারলেও নিজের পছন্দসই হয়না। এবার মেলায় দুটো ছোটদের পিকচার বই এর কাজ করেছিলাম। একটা এসেছে শৈশব প্রকাশনী থেকে- শারমিন শামসের টুলটুল আর ম্যাও ছানাদের গপ্পো। আর দ্বিতীয়টা খুবই স্পেশাল-কারন এটা লিখেছেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এবং বই এসেছে তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে।

এবার এক্সপেরিমেন্ট করতে চেয়েছিলাম পার্সপেক্টিভ এবং কালার ভ্যারিয়েশান নিয়ে। ডিসটর্টেড পার্স্পেকটিভ এর আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে যেয়ে লেজে গোবরে। আর কালার ভ্যারিয়েশনে চেষ্টা করেছিলাম ডিজিটালেই কালার ডায়নামিক্স সহ ব্রাশ ব্যবহার করে একটু স্মাজি কালারের ভাব আনার। সেটাও কিছু জায়গায় বেশি বেশি হয়ে যেয়ে মেখে গেছে কিছুটা। তবে বই এর প্রিন্ট খারাপ আসেনি কোনটার এটাই শান্তনা!

কিছু ছবি ব্লগে দিয়ে রাখি।









নীলকমল-লালকমল

ঢাকা কমিক্স থেকে বইমেলার জন্য করা এবারের কমিক। দক্ষিণারঞ্জন এর ঠাকুরমার ঝুলি থেকে নেওয়া নীল কমল লাল কমল এর রূপকথার ছায়া অবলম্বনেই কমিক টা করা বলা যায়। এই প্রজেক্টের শুরু সম্ভবত গত বইমেলার (২০১৮) এর পর পরই। মেহেদি ভাই বললেন আগামী মেলাতে একটা বিশাল পরিকল্পনা। ঠাকুর মার ঝুলি এর গল্প গুলির কমিক ভার্সন করা হবে ঢাকা কমিক থেকে। ছয় আর্টিস্ট ছয় গল্প থেকে কমিক করবে। একসাথে বিরাট একটা সংকলন। ছোটদের জন্য একদম জমজমাট আকর্ষন।

প্রজেক্ট এর প্রাথমিক উত্তেজনা কেটে কাজ শুরু করতে করতে দেখা গেল বছরের শেষ দিক চলে আসছে। মেহেদি ভাই বললেন কমিকের কাজ শুরু করতে পারবা? আমি বলি মেহেদি ভাই এই তো আর একটা কমিক শেষ করতেছি-শেষ করেই ধরব। মেহেদি ভাই কয়দিন পর আবার বলেন রূপকথা কমিকের কাজ ধরতে পারবা-আমি বলি এইতো মেহেদি ভাই, স্ক্রিপ্ট লিখতেছি। লিখেই ধরব। ভাই আবার কিছুদিন পর বলেন-কাজ কী ধরতে পারবা? আমি বলি ভাই আমি তো বিয়ের মার্কেটিং এ-শেষ করেই ধরতেছি।

এই গড়ি মসি করতে করতে নীলকমল লালকমলের কাজ ধরা হল প্রায় ডিসেম্বরে। আর রঙ করে ফাইনালি সব শেষ করে জমা দিলাম ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখে। শেষ দিকের প্রায় ১০ পেজে ফ্ল্যাট কালার করে সাহায্য করেছে রোমেল। দারুন প্রিন্টে ঝক ঝকে কমিক বই ঢাকা কমিক্সে চলে আসল মেলার দ্বিতীয় সপ্তাহেই।

ঠাকুরমার ঝুলি এর আক্ষরিক কমিক রূপান্তর আমার পশ্চিমা কমিকের স্টোরিটেলিং আইডিয়ায় হয়ত করতে পারিনি। চেষ্টা করেছি নিজের মত করে গল্পটা বেশ পরিবর্তন করেই বলতে। মূল ভাবনা, চরিত্র এবং গল্পের ক্রম ঠিক রেখে সংলাপ, ক্যারেক্টার বিল্ডিং এবং রূপকথার রাজ্যের বর্তমান সময়ের ক্যারেক্টারাইজেশনে নিজের স্বাধীনতা মত বলা যায় যাচ্ছেতাই ই করেছি। মেহেদি ভাই টুকটাক এডিট করা ছাড়া আমাকে আমার মতই লিখতে আঁকতে কোন বাধা দেন নাই!

এই সিরিজের অন্যান্য বই গুলোর কাজ অনেক খানি আগানোর পরেও নানা জটিলতায় এবার মেলায় আসেনি। তবে আশা করি সামনের মেলায় রূপকথা সিরিজের আরো বই আসবে।

কেমন লাগল পাঠকের কে জানে-রূপকথার পাঠকদের সাথে যোগাযোগ এখন আর নেই।


মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

নিজের কমিক-০৫

অনেক ঝক্কি ঝামেলা শেষে অবশেষে তুফান কমিক এখন বাজারে!  এর মধ্যে নানান কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে যেতে ব্লগে কোন আপডেট দেওয়া হয়নি। কমিকের পুরো গল্প একবারে করার প্ল্যান থাকলেও শেষ মেষ সময়  স্বল্পতায় দুই ভাগে করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ৬২ পেজ করে মোট ১২৪ পেজে দুই খন্ডে গল্প শেষ করার পরিকল্পনা এখন। প্রথম ৬২ পেজের কাজ সময় মত শেষ করে মেলার প্রথম দিন থেকেই পাঞ্জেরী স্টলে পাওয়া যাচ্ছে তুফান-০১!

গ্রাফিক নভেলের এই কাজে অনেকের কাছে অনেক রকম হেল্প পেয়েছি। কমিকে ফ্ল্যাট কালারে কাজ করেছে মারুফ হাসান, ফাহাদ রহমান, রেহনুমা প্রসূন, রাকিব রাজ্জাক এবং রোমেল বড়ুয়া। কমিকের এডিটিং, টাইটেল ডিজাইন, প্রিন্টিং সব কিছুর দায়িত্ব নিয়েছেন পাঞ্জেরী এর নিলয়দা। কমিকের প্রিন্ট দেখে মন ভাল হয়ে গেছে! কমিকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাথে ছিলেন শাহরিয়ার ভাই- কমিকের টাইটেল ও শাহরিয়ার ভাইএর দেয়া। আর সেই সাথে বিভিন্ন সময়ের স্ক্রিপ্ট পড়ে ফিডব্যাক জানিয়েছেন আরো অনেকে! সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


নিজের স্টাইলে নিজের গল্পে গ্রাফিক নভেল করলাম প্রথম! জানিনা কেমন লাগবে সবার-আমি কাজটা করে বেশ মজা পেয়েছি। আর্ট স্টাইল, স্ক্রিপ্টিং দুই ক্ষেত্রেই অনেক এক্সপেরিমেন্ট আছে, অনেক ভাবনা চিন্তা ছিল-সব কিছু ঠিক ঠাক আনতে পেরেছি কিনা জানিনা। অচিরেই দ্বিতীয় পর্বের কাজে হাত দিব। কমিকটা পড়ে ফিডব্যাক জানালে খুব খুশি হব!

মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১৮

অনলাইন ক্লাশ-৭,৮

অনলাইন ক্লাশ সিরিজের সপ্তম এবং অষ্টম পর্বঃ

নানান কাজের চাপে অনলাইন ক্লাস সিরিজের ৬ আর ৭ নম্বর পর্বের কাজ গুলো ব্লগে দেয়া হয়নি। একসাথে দুইটাই এবার লিখে রাখছি।

৭ম সপ্তাহঃ

এই সপ্তাহে টপিক ছিল টেক্সচার। কী নোটস গুলো লিখে রাখি এখানে।

০১। টেক্সচার হিসাবে বড় সাইজের ব্রাশ স্ট্রোক বা প্যাটার্ন ব্যবহার করা। টেক্সচার দিয়ে তারপরে রেগুলার পেইন্টিং ব্রাশ দিয়ে সেটাকে ফর্মের সাথে মিলাতে হয়।

০২। টেক্সচার হিসাবে ফটো বা অন্যান্য রেফারেন্স ব্যবহার করলে সেটার লেয়ার মুড সেটিং আর অপাসিটি সেটিং নিয়ে কাজ করে টেক্সচারটাকে ছবির সাথে মিলাতে হবে।

০৩। টেক্সচার ব্যবহারের সময় ছবির ডেপথ আর ফর্মের ডেপথ মাথায় রাখতে হবে। ফোর গ্রাউন্ড ব্যাকগ্রাউন্ডে একই টেস্কচার ব্যবহার করলে ডেপথ হারিয়ে যায়।

০৪। পার্স্পেক্টিভ গ্রিড ব্যবহার করে গ্রাউন্ডে টেক্সচার ডিসটর্ট করে পার্সপেক্টিভের সাথে মিলিয়ে বসান যায়।

০৫। ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইনে লেয়ারিং খুব ইম্পর্টেন্ট। কোন রেফারেন্স দেখে আকলেও সেখানে এলিমেন্টের লেয়ারিং বুঝে নিজের মত ইন্টারপ্রেট করে আকান উচিত। 

এসাইনমেন্টঃ



৮ম সপ্তাহঃ

এই সপ্তাহে মুলত লেকচার টপিক তেমন কিছু ছিল না। আগের সব লেসন একসাথে নিয়ে কিভাবে কমপ্লিট কাজ করা যায় তার উপরে একটা ডেমো।

এসাইনমেন্টঃ


এবং এখানে কোর্সের সমাপ্তি! বেশ কিছু নতুন জিনিস শিখেছি-আর একটা যেটা কাজে আসছে সেটা হল বাইরের অসাধারন ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট গুলার প্রসেস আর ডিজাইন ফিলোসফি সম্পর্কে জানতে পারা। এখন এগুলো মাথায় রেখে নিয়মিত প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে হবে!

শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

অনলাইন ক্লাশ-৬

অনলাইন ক্লাশ সিরিজের ষষ্ঠ পর্বঃ

৬ষ্ঠ সপ্তাহঃ

এই সপ্তাহে টপিক ছিল লাইটিং। কোন সিন কিভাবে লাইট করতে হয় তার উপরে কিছু জেনারেল টিপস। কী পয়েন্টস এখানে লিখে রাখি।

০১। কোন সিনে কী ধরনের লাইটিং ব্যবহার করব তার অনেক অংশেই নির্ভর করবে সিনে কি দেখাতে চাই তার উপরে। কোথায় ফোকাস করতে চাই তার উপর বেস করে লাইটিং সিনারিও চেঞ্জ করতেও হবে।

০২। একই সিন বেশ কিছু সেটিং এ লাইট করার প্র্যাকটিস খুব কাজে দেয়। একেবারে ড্রাস্টিকালি মুড চেঞ্জ করা সম্ভব লাইটিং চেঞ্জ করে।

০৩। হার্ড লাইট আর সফট লাইট ইন্ডিকেট করা যায় শ্যাডো এজ দিয়ে। শ্যাডো এজ সফটার মানে লাইট ডিফিউসড-আর হার্ড হলে লাইট হার্ড। ওভারকাস্ট লাইট আর কড়া সুর্যের আলো বুঝাতে এই পার্থক্য করাটা কাজে দিবে।

০৪। ডিফিউজড লাইটে সাধারনত কোন কড়া শ্যাডো পড়ে না। খালি ফর্মের পার্থক্য বুঝাতে অক্লুশান শ্যাডো টাই দেখা যায়।

০৫। দিনের কোন সময়ের লাইট বা বছরে কোন ঋতু এর সময়ের ছবি তার উপরে লাইটিং ভ্যারি করে।

০৬। কিছু ইন্টারেস্টিং লাইটিং স্কিমঃ

- ফোরগ্রাউন্ডে হার্ড লাইট-ব্যাক গ্রাউন্ডে ডিফিউজড লাইট।
- এরিয়াল লাইট ব্যবহার করা-যেমন নাইট সিনে ছোট ছোট হারিকেন আলো-বাসার সামনে চাইনিজ ল্যাম্পের আলো-এগুলো সফট এজ তৈরী করে লাইটের।
-সিনে একদম ডাইনামিক ভাবে লাইট প্যাচ যোগ করা। ভোর বেলায় পাতার ফাক দিয়ে বা গুহা মুখের সামনে এ ধরনের লাইট রে দেখা যায়। আমাদের খাগড়াছড়িতে আলুটিলা গুহা দেখে বের হলে এমন একটা লাইট আসে।
-ফোরগ্রাউন্ডে ডার্ক আর ব্যাকগ্রাউন্ডে কোথাও থেকে আলো আসছে-লাইট এট দা এন্ড অফ টানেল এমন সিনারিও।
- বিকাল বা সন্ধ্যার আলো-এই আলোতে একটা হলুদ ব্যাপার থাকে-একই সাথে এংগেলে পড়ার কারনে ডাইনামিক শ্যাডো পাওয়া যায়।



এ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ছিল তিনটা সিন নিয়ে প্রতিটা তিনভাবে লাইটিং করা।