মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭

ফিরে দেখা!

কয়েকদিন আগে বুয়েট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এর থেকে এক জুনিয়র নক দিল- ফ্রি আছি কীনা জানার জন্য। কী কারন জানতে চাইল জানাল হৃদয়দের ক্লাব ফেয়ারের সময় একটা পোস্টার ডিজাইন করে দিয়েছিলাম ড্রয়িং দিয়ে-সে রকম একটা করে দিতে পারব কীনা সময় থাকলে।

বুয়েট ছেড়েছি প্রায় ৪ বছর হতে চলল। বুয়েটের দিকে আসা যাওয়ার মাঝে কালে ভদ্রে দু একটা চেনা চেহারা যা চোখে পড়ে তার প্রায় সবাই ই ফটোগ্রাফিক সোসাইটির। নিজের ডিপার্টমেন্টের বেশির ভাগই আজ বুয়েটের বাইরে, স্যারদের কাছেও কোনকালে চেনা মুখ ছিলাম না- তাই বুয়েটে চেনা মুখ আর তেমন কেউ নেই এখন। ক্যামেরা কিনে এককালে ফটোগ্রাফির শখ হয়েছিল তাই বুয়েট ফটোগ্রাফিক সোসাইটিতে কিছুদিন ঘুরা ঘুরি করেছিলাম। সোসাইটি এর কাজে কামে কোন কালে খুব একটা আসিনি। তবে কিছু সিনিয়র জুনিয়র ব্যাচমেট ভাই আপুদের সাথে পরিচয় হয়েছিল এই ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এর ফটোওয়াক, এক্সিবিশন এসবের মধ্য দিয়েই। ক্যামেরার অকালমৃত্যুর মধ্যে দিয়ে আমার ফটোগ্রাফি জীবনের সমাপ্তি হয়। 

কার্টুন ড্রয়িং এর শুরুর দিকে ২০১৩ এর ক্লাব ফেয়ারের সময় একটা ইলাস্ট্রেশন দিয়ে মেম্বার কল এর পোস্টার ডিজাইন করি বুয়েট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এর জন্য। ফেসবুকের এক নক থেকে তাই এক ধাক্কায় অনেকখানি পিছনে ঘুরে আসলাম। কম্পিউটারে ফোল্ডার ঘেটে সেই পোস্টার টাও খুজে দেখলাম। ভাবলাম একে দেখি ৪ বছর পরে কি দাঁড়ায় এখন। সেই ফিরে দেখা নিয়ে এই পোস্ট।

২০১৩ তে করা পোস্টার

২০১৭ তে করা পোস্টার

ফিরে দেখতে ২০১২ তে আকা একটা ড্রয়িং নিয়ে আবার আঁকা


বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

টিউটো পোস্ট-পার্স্পেকটিভ

আকান্তিস গ্রুপে দেয়া সিধুর একটা পোস্ট দেখে ফিগারে পার্সপেকটিভ নিয়ে একটা লেখার আইডিয়া মাথায় আসল। টিউটোরিয়াল লিখতে আসলে ভয় লাগে কারন দেখা যায় নিজেই নিত্য নানান জিনিস পত্র শিখছি, পুরনো শেখাটা ভাংছি, আবার নিজের আঁকা নিজেই বদলে ফেলছি। ফলে কাউকে কিছু শেখাতে গেলে নিজের দুর্বলতা গুলার কথা বেশি মাথায় আসে-কি বলব বুঝে উঠতে পারি না। তবে এই পোস্টের ছবিটায় কিছু কমন মিসটেক দেখলাম (যেগুলো আমি ও করি) যা একটু এড়তে পারলে ড্রয়িং এ কুইক ইম্প্রুভ করা সম্ভব। সেটার জন্যই লেখা।


ছবিটায় একটা ফিগার দাড়ান। ক্যামেরাটা হালকা উপর থেকে ধরা। এরকম অ্যাংগেলে আমরা একটা ফ্রিজের কার্টুন চিন্তা করি।
এই ছবির মত দেখাবে কিছুটা। 

এখানে দাগ দিয়ে যেই দুটো ডিসট্যান্স দেখান হচ্ছে তারা কিন্তু সমান। এখানে দেখতে সমান না মনে হলেও আমরা বুঝতে পারি এই দুই লাইন সমান দুরত্ব বুঝাবে। তার কারন একটা প্লেন আর একটার থেকে দূরে অবস্থিত এবং আমাদের চোখে এই পার্স্পেক্টিভ এর জন্য যে ডিসটর্শন হয় সেটা ধরা পড়ে একটাকে আর একটার থেকে ছোট দেখাচ্ছে।

এবার এই ফ্রিজ কার্টুনের গায়ে কিছু প্যারালেল দাগ টানি।

একদম পার্স্পেক্টিভে না মিললেও চোখের আন্দাজে দেয়া দাগ। এই দাগ গুলি একটা আরেকটার সমান্তরাল। সামনা সামনি দেখলে এদের হুবহু সমান্তরাল দেখাবে কিন্তু পার্স্পেকটিভে গেলেই দেখা যাবে ডিসটরশন চলে আসছে।



৩ পয়েন্ট পার্স্পেকটিভ এ বাক্সটা দেখাবে এমন। পার্সপেকটিভ গ্রিডের কারনেই এই ডিসটরশন গুলো তৈরী হচ্ছে।

এই পর্যন্ত যদি বুঝা যায় তাহলে পরের অংশটা সহজে ধরতে পারা যাবে। এই ফ্রিজ কার্টুনের ভেতর এবার যদি মনে করি একটা লোক আছে এবং সে যদি দুই পাশ থেকে তার হাত গুলো বের করে তাহলে জিনিসটা কেমন দাঁড়াবে?

পার্সপেক্টিভ গ্রিড ফলো করে আঁকালে দুই হাত কিন্তু আমরা আগে বক্সটার গায়ে যে দাগগুলি আকলাম সেই গুলির একটা লাইনকে ফলো করবে।

এরপর পা বের করে দেখি লোকটার।


পা বের হয়ে গ্রাউন্ড কে টাচ করবে আমরা গ্রিডে যেই সারফেস একে রাখলাম সেই সারফেস বরাবর। পা এর ডিরেকশান টা খুব গুরুত্বপূর্ন কারন এটাই নিচের পার্স্পেকটিভে থাকা গ্রিড টার সাজেশন বুঝতে সাহায্য করবে।

এইসব বুঝার পর এবার আমরা আমাদের প্রথম ছবিটায় আবার ফিরে যাই।

যদি আগের প্রিন্সিপাল ফলো করে আমরা ছবিটার দিকে তাকাই তাহলে দেখব হাতের পজিশন টা কোথায় হওয়া উচিত রিয়ালিস্টিকালি। একই সাথে গ্রাউন্ডের পার্স্পেকটিভটাও বুঝা যেতে হবে পায়ের ডিরেকশান দিয়ে।

প্রথম দিকে আমার ধারনা ছিল পার্সপেকটিভ দরকার হয় শুধু ল্যান্ডস্কেপ অথবা এনভায়রনমেন্ট আকতে। পরে একটা গ্রিডের মধ্যে ফিগার ড্রয়িং দেখে মাথায় আসে যে আসলে ফিগার ও তো সব সময় পার্সপেকটিভের মধ্যেই আমরা দেখি এবং ফিগারের স্কেল ল্যান্ডস্কেপের মত বিশাল না হলেও ছোট স্কেলে ফিগারে কিছু পার্সপেকটিভ চেঞ্জ দেখা যায় যেটা না আনলে ছবিতে থ্রিডি ব্যাপার টা পুরোপুরি আসে না। এজন্য সব সময় একুরেট গ্রিড টেনে না হলেও চোখের আন্দাজে কিছু পার্সপেকটিভ দিতে চেষ্টা করি ড্রয়িং এ।

ফিগারে কিভাবে পার্সপেক্টিভ বুঝা যায় এই ছবিটার উদাহরন দিয়ে কিছুটা বুঝতে চেষ্টা করি। আমরা সহজ করার জন্য ফিগারের উপর ইমাজিনারি কিছু লাইন নিতে পারি পার্সপেক্টিভে ছবিটাকে বসাতে। এগুলোকে ল্যান্ডমার্ক বলে।

১। দুই কাঁধের জয়েন্ট লাইন
২। দুই কনুই এর জয়েন্ট
৩। দুই হাতের ডিরেকশান
৪। কোমরের পেলভিস এর উপরে যে শক্ত হাড় থাকে সেটার জয়েন্ট লাইন
৫। দুই হাটু এর জয়েন্ট লাইন
৬। দুই গোড়ালির উপরের হাড়ের জয়েন্ট লাইন
৭। পা এর ডিরেকশান

তবে এগুলি ছাড়া যে ফিগারে আর ল্যান্ডমার্ক নেই সেটা কিন্তু না-আকতে গেলে ফিগারের উপর যেকোন লাইন ছবিতে পার্সপেক্টিভ বুঝাতে সাহায্য করবে। যেমন এখানে ওয়ান্ডার ওম্যানের হাতের যে আর্ম ব্যান্ড-দুই হাতে সেটা জয়েন্ট করলে একটা ডিরেকশান লাইন হতে পারে। কোমরের যে বেল্টটা-সেটা একটা সহজে পার্সপেকটিভ এবং ফিগারের ডিরেকশান বুঝাবার লাইন হতে পারে।জামার প্যাটার্ন, টেক্সচার ইত্যাদির অসংখ্য ইনভিজিবল জয়েন্ট গুলা আসলে আমাদের ব্রেনকে ইলুশন তৈরী করে যে এটা একটা থ্রিডি জিনিস।





এবার এই ছবিটায় খেয়াল করি-মাঝের ছবিতে আমি লাল দাগ দিয়ে জয়েন্ট গুলি দেখিয়েছি। আর একদম ডানের ছবিতে প্রথম ছবিটায় জয়েন্ট গুলি কিভাবে আছে সেটা দেখালাম। মুল ছবিটায় থ্রিডি ইলুশন না আসছিল না মূলতঃ হাত দুটো একদম এক লাইনে থাকার জন্য। এটা হতে পারে যদি ওয়ান্ডার ওম্যানের ডান হাত যদি বাম হাতের থেকে লম্বা হত তাহল। পার্স্পেকটিভ গ্রিড টা হালকা আইডিয়া করে নিলে এই জয়েন্ট গুলি কে পার্স্পেকটিভে ফেলতে সুবিধা হয় অনেক।

আর একটা বিষয় যেটা আমার মনে হয় যে এই গ্রামার মেনে আঁকা বা গ্রিড চিন্তা করে আকার সাথে রিয়ালিজম, স্টাইলাইজড ড্রয়িং ইত্যাদির কোন কনফ্লিক্ট নেই। আঁকার স্টাইল যেমন ই হোক ত্রিডি ভাবটা আনতে চাইলে এভাবে চিন্তা করা ভাল। তবে সব ফিগার আকার সময়ই একেবারে স্কেল নিয়ে বসে পার্সপেকটিভ গ্রিডে আকতে বসে যাবার দরকার নেই-গ্রিডটা হালকা করে চোখের আন্দাজে যেটা ভাল লাগে সেভাবে আকলেই হবে। খুব একুরেট করতে গেলে আবার ড্রয়িং এর মজাটাই চলে যায়।

অনেক কিছু লিখে ফেললাম যার অনেক কিছুই হয়ত পরিষ্কার করে বুঝাতে পারি নাই। শেষে এই ড্রয়িং টার উপর একটা রি ড্র! আর সিধুকে ধন্যবাদ ওর ছবিটা টিউটোতে ব্যবহার করতে পারমিশান দেবার জন্য!



সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৭

কালার স্টাডি প্রসেস

কালার নিয়ে স্টাডি করার জন্য এই ছবিটা কালার করা। কালার প্রসেস একটু আলাদা ভাবে চেষ্টা করলাম এখানে। ধাপে ধাপে লিখে রাখি-

০১। প্রথমে ব্যাকগ্রাউন্ড আর ফোরগ্রাউন্ড আলাদা লেয়ারে সলিড কন্ট্রাস্টিং কালার দিয়ে ফিল করলাম।

০২। ব্যাকগ্রাউন্ডে কমলা কালার দেই এবং ফোর গ্রাউন্ডে গাড় নীল।

০৩। কমলা এর ভেতর আস্তে আস্তে হলুদ এর দিকে যেতে থাকি আকাশের জন্য। শ্যাডো কালার বের করার জন্য হালকা অপাসিটি দিয়ে একটা কুল কালারের গ্রাডিয়েন্ট দেই। যেমন এক্ষেত্রে নীল রঙ এর গ্রাডিয়েন্ট কমলা এর সাথে মিশে একটা বেগুনি ধরনের কালার হয়-এই কালার টা বিল্ডিং এ শ্যাডো হিসাবে ব্যবহার করি।

০৪। নীলের ভেতরেও একই ভাবে শ্যাডো বা স্কিন কালার বের করার জন্য কমলা অথবা স্কিনের পিচ কালার নিয়ে গ্রাডিয়েন্ট দেই। যে কালার টা পাওয়া যায় সেটা পিক করে স্কিন অথবা অন্য কিছু কালার করি। নীলের ভেতর হালকা এবং ডিস্যাচুরেটেড কুল একটা কালার নিয়ে চেয়ার এবং টেবিল গুলি কালার করি। ফ্লোরে বেস কালারের থেকে আরো ডার্ক টোনে যাই।

০৫। শেষে আকাশে মেঘ পাখি ইত্যাদি ইত্যাদি

প্রসেস টা নিজে নিজে বুঝার চেষ্টা করছি-দেখা যাক এটা কেমন কাজে দেয়!

দস্তাবেজ-১৬

সি বিচ হ্যামক থিম নিয়ে নাড়া চাড়া-ওয়ার্ম কালার এক্সপ্লোর করছিলাম

ক্যারেক্টার ডিজাইন গ্রুপের চ্যালেঞ্জের জন্য আঁকা-হিপি থিম নিয়ে

নিজস্ব স্টাডি-ইন্ডিয়ান রানী ডিজাইনের মোটিফ স্টাডি করছি


সব ঝাড়ু দিয়ে জড়ো করা পোস্ট

ক্যারিকেচার-১৬




স্পাইস এফ এম এর আর জে টাজ!
পেজের ক্যারিকেচারের বেশ কিছু কাজ জমে আছে-ব্লগে দিয়ে দিলাম।

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৭

রেফারেন্স থেকে আঁকা কিভাবে?

রেফারেন্স ব্যবহার করে আঁকা বিষয়টা একটু কনফিউজিং মনে হয় সব সময়। এক এক জন রেফারেন্সিং কথাটা এক এক ভাবে ব্যবহার করে। যেমনঃ

০১। রেফারেন্স নিয়ে আঁকা মানে অনেকের কাছে কোন আর্টিস্টের একটা ছবি দেখে হুবহু সেটা কপি করে আঁকা।

০২। রেফারেন্স স্টাডি মানে একটা ছবি এর জেশচার, টেক্সচার, কালার ইত্যাদি স্টাডি করা।

০৩। রেফারেন্স সহ আঁকা মানে ছবি দেখে দেখে আঁকা আর রেফারেন্স ছাড়া আঁকা মানে নিজের মন থেকে আঁকা।

০৪। রেফারেন্সিং মানে ছবি থেকে হুবহু ট্রেসিং করা।

এরকম অনেক গুলো ব্যাখ্যা শুনি রেফারেন্সিং এর। আমার নিজের আঁকার ক্ষেত্রে উপরের কম বেশি সব গুলোই ব্যবহার করি। অনেক সময় কমিক ব্যাকগ্রাউন্ড আঁকার সময় দেখা যাচ্ছে অনেক এলিমেন্ট মোটামুটি ট্রেস করে এঁকে ফেলি। আবার অনেক সময় স্টাডি করার জন্য বা পোজ বুঝার জন্য রেফারেন্স ছবি নামিয়ে সেটা দেখে জেশচার কপি করি। কোন কোন ছবি থেকে কালার পিক করে কালার প্যালেট রেফারেন্স বানাই। আবার অনেক সময় জামার প্যাটার্ন, ডিজাইনের টেক্সচার এগুলো রেফারেন্স দেখে বানিয়ে নেই।

রেফারেন্স নিয়ে আঁকা শুনলেই অনেকে ভাবে এটা ট্রেসিং বা কপি করে আঁকা। আমার মনে হয় রেফারেন্স থেকে আইডিয়া নিয়ে একটা ছবি কপি করে আঁকার পর যদি সেটা থেকে মুল বিষয়গুলো বুঝে নেয়া যায় তাহলে পরবর্তীতে অন্য কাজে সেগুলি বেশ কাজে দেয়। রেফারেন্স নিয়ে আঁকা আমার কিছু কাজ শেয়ার করি এখানে।
রেফারেন্স দেখে জেশচার, ড্রেস প্যাটার্ন স্টাডি।
রেফারেন্স থেকে লকনেস মনস্টার, লাইটিং, প্যাটার্ন স্টাডি

ফটো রেফারেন্স থেকে ড্রেস প্যাটার্ন, ব্যাগ এর ডিজাইন স্টাডি
জেশচার এবং পোজ স্টাডি

আমার মনে হয় রেফারেন্স দেখে যেটা আঁকা সেটাকে স্টাডি হিসেবে নিয়ে পরবর্তীতে নিজের কাজে সেটা ব্যবহার করতে পারলে এই প্র্যাকটিসটা অনেক কাজে দেয়। তা ছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ড, টেক্সচার, প্যাটার্ন, ড্রেসাপ ইত্যাদি নানান জিনিসে রেফারেন্স ছাড়া আঁকাটাও কঠিন হয়ে যায়। এগুলির রেফারেন্স থেকে প্র্যাকটিস করলে তারপর আঁকার মধ্যে অনেক নতুন জিনিস এমনিতেই চলে আসে।