মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৪

স্টাইল



কয়েকদিন ধরে আমাদের আকান্তিস গ্রুপে আলোচনা চলছে স্টাইল নিয়ে। আমি নিজেও স্টাইল নিয়ে যথেষ্ট কনফিউজড ছিলাম এবং আছি এখনো। তারপরেও যতটুকু নিজে চিন্তা ভাবনা করে এবং মেহেদি ভাই এর সাথে কথাবার্তা বলে বুঝলাম সেটা শেয়ার করার চেষ্টা।
প্রথমে বলি স্টাইল আসলে কি? স্টাইল আমার মতে আঁকার ধরন-এক এক জনের হাতের লেখা যেমন এক এক রকম সেভাবে আঁকার ধরনেও এক জনের সাথে আর এক জনের পার্থক্য থাকবে। এটাই স্টাইল। এখন একটা জিনিস মাথায় রাখা দরকার যে স্টাইল কোন ভাবেই বেসিক ড্রয়িংকে পাশ কাটিয়ে শর্টকাটে কিছু করা নয়। একদম সিম্পল স্টাইলে ড্রয়িং এর যেই বেসিক, একদম রেয়ালিস্টিক স্টাইলেও সেই একই বেসিক থাকতে হবে। (যদি না আপনি থ্রিডি বাদ দিয়ে টুডিতে আকতে যান-এটা নিয়ে এখানে আলোচনায় না যাই। আগ্রহ থাকলে নিও রেট্রো স্টাইল নিয়ে গুগলে দেখতে পারেন) ড্রয়িং এর বেসিক বলতে আমি বুঝি ফর্ম ঠিক থাকা, ফোরশর্টেনিং ঠিক থাকা, কন্সট্রাকশন সহজ এবং ক্লিয়ার থাকা, জেশচার যতদুর পারা যায় ফলো করা-এইগুলা। লেখার সময় আমি যেমন যত প্যাচ গোচ দিয়েই লিখি না কেন “ক” যদি দেখে “ক” বলে চেনা না যায় আর কেউ যদি পড়তে না পারে তাহলে লেখার মানে দাঁড়ায় না। সেভাবে ড্রয়িং এর হাজার কেরদানি দেখায় লাভ নাই যদি সেটা রিডেবল না হয়।
তাহলে স্টাইলের সাথে ড্রয়িং এর কোন বিরোধ নেই এটা মাথায় রেখেই আমরা এগুই। এবার আসি স্টাইলে ডেভেলপ হবে কিভাবে সেটা নিয়ে। প্রথমত নিজের স্টাইল তৈরী করতে হলে প্রচুর আঁকতে হবে এবং আঁকতে হবে কনফিডেন্সের সাথে। তাহলে প্রচুর যদি আঁকতেই হয় সেক্ষেত্রে তেমন ভাবেই আঁকা ভাল যেটাতে আপনি আরাম পান এবং স্ট্রেস না পড়ে কাজে। এই কাজটা অনেক দিন ভুল ভাবে করতাম-মানে কোন আর্টিস্ট এর কাজ ভাল লাগলে তার ড্রয়িং থেকে স্টাইল টা নিজের আঁকায় কপি করতে চেষ্টা করতাম। ফলে কাজ ও শেষ হত না, সময় ও লাগত শুধু শুধু এবং শেষ মেষ নিজের মন মত কিছুই হচ্ছিল না। এখন ভাবতেছি এর থেকে নিজের স্টাইলে কিভাবে নতুন কিছু যোগ বিয়োগ করে আরো ডেভেলপ করা যায় সেটা চিন্তা করাই বেটার। তাহলে আঁকাও যায় আরামে এবং “কেন ওরকম হচ্ছে না”-এই প্রেশার থেকেও নিশ্চিন্ত থাকা যায়।

মোদ্দা কথা তাহলে যা দাঁড়াল সেটা হল-যেভাবে এঁকে আরাম পান সেভাবে এঁকে যান। খালি মাথায় রাখেন কি আঁকতেছেন, আর একজন সেটা কিভাবে আঁকতেছে এবং কিভাবে আপনার স্টাইলে সেটা
Incorporate করা যায়। আর একই সাথে নিজের স্টাইলে কনফিডেন্টলি আঁকার জন্য ড্রয়িং প্র্যাকটিস চালায় যাওয়া-এইটুকুই আমার এখন পর্যন্ত আন্ডারস্ট্যান্ডিং। সবাইকে ধন্যবাদ!

বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪

দস্তাবেজ-০৮

খুবই ব্যস্ত সময় যাচ্ছে-কোথা থেকে দিন কেটে যাচ্ছে তাল মেলাতেই পারছি না। আঁকার সময় নেই-নিজের কাজের সময় নেই। তার মধ্যে টুক টাক হাবি জাবি পোস্ট। অনেক কিছু মাথায় আছে করা হচ্ছে না। প্রজেক্ট টাইম ম্যানেজমেন্ট আসলে একটা ভাইটাল স্কিল!
শামারোখ-অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী বই থেকে

কমিক কনের কসপ্লে

রেফারেন্স ফটো থেকে স্টাইলাইজড ড্রয়িং

মহররমের তাজিয়া





শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৪

রস-আলো

রস আলো তে প্রতি সপ্তাহেই টুকটাক ইলাস্ট্রেশান কার্টুন ইত্যাদি করা হয়। বছর প্রায় শেষের দিকে-একটা রিভিউ করতে গেলাম! পুরাতন এবং নতুন কাজের তুলনা আর কি-এটা মাঝে সাঝেই করি নিজের কাজের ভেতর পরিবর্তন আসে কিনে দেখতে। নতুন এক ফ্রেমের কার্টুন ভাবাও শুরু করলাম-ড্রয়িং স্কিলের পাশা পাশি আইডিয়া স্কিল ডেভেলপ করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ!

২০১৪ জানুয়রি এর কাজ

২০১৪ অক্টোবারের কাজ

দস্তাবেজ-০৭

নানান সময়ে করা টুকটাক কাজ।




লাইভ ক্যারিকেচার









কিশোর আলো এর প্রথম বার্ষিকীতে ক্যারিকেচার বুথে করা কুইক ক্যারিকেচার। ব্লগে আপডেট দিয়ে রাখলাম!


https://www.youtube.com/watch?v=gKFZoMNazA4&feature=youtu.be

এবং লাইভ ভিডিও আপডেট!

শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৪

ডিজিটাল রঙ প্রসেস



সবার জন্য শুরুতেই ডিসক্লেমার দিয়ে রাখি এই পোস্টটা কেবল মাত্র ব্যক্তিগত প্রসেসিং এর উপর ভিত্তি করে লেখা। এখানে কালার থিওরি বা পেইন্টিং, লাইটিং এর নিয়ম নিয়ে খুব একটা আলোচনা করা হয়নি। সিম্পলি কিভাবে কালার করি সেই কাজের ধাপ গুলো বর্ননা করা হয়েছে।





০১। আমি সাধারনত সলিড ইংক ওয়ার্কের উপরে কালার করি। এখানে সেরকম একটা ড্রয়িং নেয়া হয়েছে শুভ এর আঁকা।


০২। প্রথমে লাইন ওয়ার্কের বাইরে ওয়ান্ড টুল দিয়ে ক্লিক করলাম। এরপর সিলেকশান ইনভার্স করে নিলে লাইন ওয়ার্কের ভিতরের অংশ সিলেক্ট হয়ে যাবে। নতুন একটা লেয়ারে (মাল্টিপ্লাই মোড) যেকোন কালার নিয়ে Alt key+ Backspace (ফিল শর্টকাট) দিয়ে ফিল করলাম।


০৩। এবার আমাদের ফিল লেয়ারের ট্রান্সপারেন্সি লক করে নেই। এটাতে যে সুবিধাটা হবে সেটা হল আমি ইচ্ছামত ব্রাশ টানলেও এই সলিড কালার এর বাইরে কোন কালার যাবে না। আপনি বাইরে কোন অংশ সহ সিলেক্ট করে ফিল করলেও আসলে কালার এর ভেতরের অংশটাই ফিল হবে। যেমন ছবি তে দেখান হচ্ছে বাইরে সহ সিলেক্ট করলেও কালার ফিল হয়েছে কেবল আমাদের প্রাথমিক লকড অংশের ভেতরেই।




০৪। কোথায় কোথায় শেড পড়বে লাইট সোর্স ধরে নিয়ে কিছু সিলেকশান করলাম। এবার শেড কালার দেয়ার জন্য আমাদের স্কিন এর বেস কালার থেকে একটু ওয়ার্মের দিকে সরে গেলাম এবং একটু স্যাচুরেটেড একটা ডার্ক কালার নিলাম। এরপর আবার ফিল।


০৫। লাইট দেয়ার জন্য আর একটা লেয়ার খুলি normal মোডে। এই লেয়ারে হাই লাইট অংশগুলি সিলেক্ট করে আমাদের বেস কালার থেকে একটু কুলের দিকে একটা কালার নিয়ে ফিল করি।

০৬। এভাবে কালারিং এর সময় দুইটা মোড বোঝা বেশ জরুরী-Multiply and Normal. (এটা কিন্তু লেয়ারের মুড না, টুলের আলাদা মোড সেট করা যায়, গ্রাডিয়েন্ট টুল সিলেক্ট করলেই উপরে অপাসিটি এর পাশে মোড পাবেন) মাল্টিপ্লাই মোডে আপনি যে টুল ই রাখুন না কেন সেটা আসলে নিচের লেয়ার বা কালারের সাথে ব্লেন্ড হবে। যেমন এখানে আমি শেডেড অংশ গুলি সিলেক্ট করে গ্রাডিয়েন্ট টুল দিয়ে কিছু গ্রাডিয়েন্ট ইফেক্ট দিব। গ্রাডিয়েন্ট টুলের অপাসিটি ৩০-৪০% এ রাখতে পারেন। গ্রাডিয়েন্ট টুল আমি যদি মাল্টিপ্লাই মোডে রাখি তাহলে হালকা কালারের গ্রাডিয়েন্ট দিলেও সেটা ডার্ক হয়ে যাবে নিচের কালারের সাথে মাল্টিপ্লাই হয়ে। আবার নরমাল মোডে রাখলে নিচের কালারের উপরে কালারের শেড আকারে পড়বে। এটা লিখে বোঝান খুব কঠিন। গ্রাডিয়েন্ট টুল নিয়ে ফটোশপে হাতে কলমে করে দেখলে বুঝতে পারবেন।

০৭। হাই লাইট লেয়ারে কাজ করার সময় গ্রাডিয়েন্ট টুলের মোড নরমাল দিয়ে রাখলাম। এরপর ব্যাপারটা লাইট শেড নিয়ে মজা জাস্ট। খেয়াল রাখবেন একটা জিনিস লাইটের পাশে ডার্ক দিলে সেটা যেমন ভাল দেখায় ডার্ক এর ভেতরে একটু লাইট দিলে সেটাও জমে যায়।

কালারের সাথে ভ্যালু, ড্রয়িং, ফর্ম, লাইট শেড ইত্যাদি ইত্যাদি সব ই আসলে জড়িত। কালার করার টেকনিক টা আসলে টার্শিয়ারি। হাজার হাজার উপায়ে কালার করা সম্ভব। তাই বলব সবাই ড্রয়িং চালাতে থাকেন। বিভিন্ন টেকনিক প্রাক্টিস করতে করতে এক সময় নিজের মত কালার করে ফেলতে শিখে যাবেন।

*কাস্টোম কালার হুইলটা
http://nerdchallenge.com/lenwhite/LenWhite.com/LenWhite.com/LenWhite.com.html

এখান থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।